বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারী খাল ও রাস্তার পাশের জায়গা দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করার মহোৎসবে মেতে উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। প্রকাশ্য দিবালোকে বেপরোয়া দখল বানিজ্য চললেও এসব প্রভাবশালী দখলদারদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা সাধারণ মানুষ। বিভিন্নভাবে হয়রানির আশঙ্কায় দখলদারদের বাঁধা না দিয়ে মুখ বুজে সহ্য করে আসছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জোবারপাড় ব্রিজের পাশে সরকারী খাল দখল করে দীর্ঘদিন ধরে পাকা ভবন নির্মাণ করে আসছেন স্থানীয় ধীরেন মধুর ছেলে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ী বঙ্কিম মধু। বছর বছর খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের ফলে সেচ সমস্যার পাশাপাশি খাল মরে গিয়ে ব্যবসা বানিজ্য হুমকির মুখে পরেছে। দখলদারদের কারণে এলাকার প্রধান ও শাখা খালগুলো ক্রমশ: ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
জোবারপাড় ছাড়াও বাশাইল বাজারে পাউবোর জায়গা দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করছেন রাজিহার ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা কৃষকলীগ সভাপতি আ. রশিদ সিকদারের ছেলে শ্রমিকলীগ নেতা মুরাদ সিকদার। এভাবে প্রভাবশালীরা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের পাশের জায়গা ও খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করায় পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে।
এরই মধ্যে সাহেবেরহাট, পয়সারহাট, রথবাড়ি, গৈলা রথখোলা, বাশাইল বাজার, ছয়গ্রাম বাজার, আস্কর কালীবাড়ি, দুশমী, করিম বাজার, বারপাইকা, রামের বাজার, ঐচারমাঠ, তালের বাজার, বরইতলা, মোল্লাপাড়া, মোল্লাপাড়া চৌমুহনীসহ বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় প্রভাবশালী দখলবাজরা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলকে ম্যানেজ করে সরকারী জায়গার রাস্তা-খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করছেন। আবার রাতারাতি তা অন্যের কাছে বিক্রিও করে দিচ্ছেন। দখলদাররা তাদের দখলকৃত জায়গা পৈতৃক, ক্রয়কৃত, ডিক্রি ইত্যাদি বলে দাবি করলেও তার স্বপক্ষে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারছেন না।
জোবারপাড় ও বাশাইলে সরকারী খাল ও রাস্তা দখলের ঘটনা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শতরূপা তালুকদারকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। তিনি তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।











